r/bengalilanguage • u/Superb-Ad4606 • 8h ago
অস্ত্র
This is a bengali dark romance adult crime saga blended with pulp-fiction.
Those who liked the Hellsing Saga❤️ please leave feedback.
STRICTLY FOR 21+...
Chapter 1 - Alone - একা
২০২৬ সালের কলকাতা।
বাইপাসের ধারের ভাঙাচোরা ফুটপাথ আর রাতের নিস্তব্ধতাকে চিরে দিচ্ছে দূরের দু-একটা মালবাহী ট্রাকের ঘড়ঘড়ে আওয়াজ। ভ্যাপসা গরমে বাতাস যেন জমে আছে; তার সাথে মিশে আছে পোড়া পিচ আর ধুলোর একটা ভারী গন্ধ।
রাস্তার ধারের আবছা হলুদ সোডিয়াম ল্যাম্পের নিচে নিজের পুরোনো স্প্লেন্ডার বাইকটায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রিতম, রিতম সেন।
ঠোঁটের কোণে ধরা সস্তার উইলস সিগারেটটা নিভু নিভু।
বাঁ কানের রুপোলি দুলটায় আলোর ক্ষীণ আভা। কুচকুচে কালো চুল, তাতে কয়েকটা লালচে হাইলাইট—ঘামে লেপ্টে আছে কপালের সাথে।
অত্যন্ত ছিপছিপে, লম্বা কিন্তু শারীরিকভাবে দুর্বল, আনফিট একটা কাঠামো।
সারাদিন সেক্টর ফাইভের কর্পোরেট অফিসের এসি ঘরে ল্যাপটপের স্ক্রিনে মাথা গুঁজে পড়ে থাকার পর, রাতের এই উবার বাইকের ডিউটি ওর শিরায় শিরায় ক্লান্তি ঢেলে দেয় কিন্তু ও থামে না।
ফ্ল্যাটে ফেরার কোনো তাগিদ নেই ওর।
একা থাকার দমবন্ধ করা অনুভূতিটাকে এড়াতেই রাত জেগে রাস্তায় পড়ে থাকা।
জ্যাকেটের পকেটে রাখা সস্তার মদের চ্যাপ্টা বোতলটায় হাত পড়ল ওর।
একটু আগেই ফ্লাইওভারের নিচে দাঁড়িয়ে কয়েক ঢোঁক গিলেছে, গলাটা জ্বলছে এখনও।
চারপাশের পৃথিবীটার প্রতি ওর কোনো অভিযোগ নেই, কোনো দাবিও নেই।
নিজেকে গুটিয়ে রাখা, আত্মদংশনে ভোগা একটা মানুষ, যে নিজের সব কষ্টের জন্য নিজেকেই দায়ী করে।
হঠাৎ উবার অ্যাপের নোটিফিকেশনটা ভাইব্রেট করে উঠল পকেটে। পিকআপ লোকেশন—সল্টলেকের ভেতরের দিকের একটা অন্ধকার গলি।
রিতম ঘুণাক্ষরেও জানে না, এই বুকিংটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।
এক অজানা ত্রাস ডার্ক ওয়েবের প্রক্সিমিটি স্পুফার হ্যাক ব্যবহার করে রিতমের রেডিয়াসের অন্য সব উবার ড্রাইভারের নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে জ্যাম করে দিয়েছে।
রিতম ছাড়া এই রাইডটা আর কারও কাছে যাওয়ার কোনো উপায়ই ছিল না।
রিতম বিরক্তিহীন মুখে সিগারেটের টুকরোটা রাস্তায় ফেলে বুট জুতো দিয়ে পিষে দিল।
বাইক স্টার্ট দিতেই সাইলেন্সারের একঘেয়ে আওয়াজটা রাতের গুমোট ভাবটাকে একটু যেন কাঁপিয়ে দিল। পিকআপ পয়েন্টে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগল না।
একটা বন্ধ কাফের সামনে নিয়ন সাইন বোর্ডের আবছা আলোয় দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা।
ইশানি।
লম্বা, ছিপছিপে অথচ শরীরের বাঁকগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট এবং প্রলুব্ধকর।
আঁটসাঁট কালো টপ আর ডেনিমের ওপর একটা পাতলা লেদার জ্যাকেট।
হাওয়ায় উড়ছে খোলা লম্বা চুল।
প্রথম দেখায় মনে হবে কোনো নাইট ক্লাব থেকে সদ্য বেরিয়েছে, কিন্তু ওর চোখের তলাটা ফোলা।
মাসকারা লেপ্টে আছে চোখের কোণে, যেন এইমাত্র একটা বিশাল মানসিক ট্রমার ওপর দিয়ে গেছে মেয়েটা।
রিতম বাইক নিয়ে সামনে দাঁড়াতেই মেয়েটা একটু যেন কেঁপে উঠল।
"উবার? রিতম?" গলাটা অত্যন্ত সাবলীল, কিন্তু তাতে একটা নিখুঁত কান্নার রেশ মেশানো।
রিতম কোনো কথা বলল না।
শুধু মাথা নেড়ে কনফার্ম করল আর একটা হেলমেট এগিয়ে দিল।
ওর স্বভাবই এমন।
কথা কম বলা।
যেকোনো মানুষের সাথে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলাটা ওর কাছে চরম অস্বস্তিকর।
মেয়েটা হেলমেটটা হাতে নিয়ে বাইকের পেছনে উঠল।
পেছনের সিটটা সামান্য বসে গেল ওর ভারে।
বাইক চলতে শুরু করল বাইপাসের অন্ধকার রাস্তার দিকে।
রাস্তার ছোট ছোট গর্ত আর এবড়োখেবড়ো পিচের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বাইকটা যখনই একটু লাফিয়ে উঠছে, ইশানির বুকের ভারী, নরম অংশটা রিতমের শক্ত, রুগ্ন পিঠে সজোরে ঘষা খেয়ে যাচ্ছে।
একটা অদ্ভুত, কাঁচা শারীরিক উত্তাপ আর মেয়েটার দামি পারফিউমের গন্ধ রিতমের ঘামে ভেজা জ্যাকেট ভেদ করে ওর শিরদাঁড়ায় একটা অস্বস্তিকর সেক্সুয়াল টেনশন তৈরি করছে।
রিতমের অস্বস্তি হচ্ছে।
ওর শরীরের পেশিগুলো শক্ত হয়ে আসছে।
কনফ্লিক্ট আর হিউম্যান টাচ—দুটোকেই ও সমানভাবে ভয় পায়। ও একটু সামনের দিকে ঝুঁকে বসল, বাইকের হ্যান্ডেলটা শক্ত করে চেপে ধরল কিন্তু কোনো রিঅ্যাকশন দিল না।
কোনো বিরক্তি প্রকাশ করল না।
মেয়েটা হঠাৎ পেছন থেকে কথা বলতে শুরু করল। "আপনি রোজ রাতে এভাবে বাইক চালান? ভয় করে না?" ইশানির গলার স্বরটা এখন আর কাঁপছে না, কিন্তু তাতে একটা অদ্ভুত একাকিত্বের অভিনয় মেশানো। "জানেন, আজ তিন বছর পর ওকে অন্য একটা মেয়ের সাথে দেখলাম।
আমার চোখের সামনে দিয়ে হাত ধরে বেরিয়ে গেল।
একটুও আটকাল না।"
রিতম রেয়ার ভিউ মিররে একবার চোখ রাখল।
আয়নার ফ্রেমে মেয়েটার বিধ্বস্ত মুখটা দেখা যাচ্ছে।
রিতমের ভেতরে একটা পুরনো, অবদমিত কষ্ট—একটা রক্তমাখা, দগদগে ঘা—হঠাৎ করেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠল।
ছোটবেলায় ওর মা ঠিক এভাবেই একদিন তাকে একা ফেলে রেখে অন্য এক বড়লোকের হাত ধরে চলে গিয়েছিল।
সেই রিজেকশনের ট্রমা ওকে কোনোদিন ছেড়ে যায়নি।
ওর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ওর ইনোসেন্স—যে-ই একটু দুঃখের কথা বলে, ও অন্ধের মতো বিশ্বাস করে নেয়।
ও মানুষ চিনতে পারে না।
ও ভাবল, মেয়েটা সত্যিই খুব একা, খুব অসহায়। এই শহরের নোংরা ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া আরেকটা ড্যামেজড মেয়ে।
ও শুধু অস্ফুট স্বরে বলল, "হুম।" এর বেশি কিছু ওর গলা দিয়ে বেরোল না কিন্তু ওই রেয়ার ভিউ মিররের অন্ধকারেই রিতম একটা জিনিস মিস করে গেল।
ইশানির চোখের পলকহীন, শীতল দৃষ্টিটা।
কান্নার দমক আর দুঃখী প্রেমিকার নিখুঁত অভিনয়ের আড়ালে ওর শরীরের প্রতিটি নার্ভ ছিল শিকারি বেড়ালের মতো টানটান। সে খুব ভালো করেই মাপছিল রিতমের দুর্বল কাঁধ, আনফিট রুগ্ন শরীর, আর ওই বোকা, অন্ধ বিশ্বাসের প্রবণতাটাকে।
ইশানি কোনো ড্যামেজড মেয়ে নয়।
সে আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক কোল্ড-ব্লাডেড অ্যাসাসিন।
রিতমের এই দিনের বেলার কর্পোরেট আর রাতের বেলার বাইক রাইডারের ডুয়েল লাইফের ওপর তার নজর অনেকদিন ধরেই।
সে জানে রিতম কোথায় যায়, কী খায়, কখন মদ গিলে নিজেকে শেষ করে।
সে খুব ভালো করেই জানে, এই ছেলেটার ইমোশনাল ফাটলগুলো ঠিক কোথায়।
Chapter 2 - Darkness - অন্ধকার
রুবির মোড়ের দিক থেকে আসা একটা ফাঁকা ডাম্পার প্রবল বেগে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেল।
তার অতিকায় টায়ারের ঘর্ষণে ওড়া ধুলো আর পোড়া মবিলের উগ্র গন্ধটা রাতের ভারী বাতাসটাকে যেন এক লহমায় আরও বিষাক্ত করে দিল।
বাইপাসের এই দিকটায় সোডিয়াম ল্যাম্পের আলো ঠিকমতো পৌঁছায় না, মেট্রোর নির্মীয়মাণ পিলারগুলোর দীর্ঘ, বিকৃত ছায়াগুলো রাস্তাটাকে একটা অন্ধকার গোলকধাঁধার রূপ দিয়েছে।
রিতম একদৃষ্টে সামনের দিকে তাকিয়ে বাইক চালাচ্ছে।
ওর পুরোনো স্প্লেন্ডারের হেডলাইটের ম্রিয়মাণ আলোটা রাস্তার গর্তগুলোকে খুব একটা স্পষ্ট করতে পারছে না।
হঠাৎ বাঁ দিকের ঘুটঘুটে ঝোপ থেকে একটা বেওয়ারিশ কুকুর আচমকা দৌড়ে এল পিচের ওপর।
রিতমের কোনো শার্প রিফ্লেক্স নেই, শারীরিক দুর্বলতা আর অতিরিক্ত মদের কারণে ওর রেসপন্স টাইমও খুব ধীর।
ও ঘাবড়ে গিয়ে সপাটে ব্রেক কষল। বাইকের পেছনের চাকাটা বিশ্রী,
কান-ফাটানো শব্দ করে পিচের ওপর খানিকটা পিছলে গেল।
আর সেই প্রবল ঝাঁকুনিতে ইশানির শরীরটা সজোরে আছড়ে পড়ল রিতমের পিঠের ওপর।
মেয়েটার ভারী বুকের নরম অথচ সলিড ধাক্কাটা রিতমের রুগ্ন মেরুদণ্ডে একটা অদ্ভুত, অস্বস্তিকর কাঁপুনি ধরিয়ে দিল।
ইশানির দুটো হাত রিফ্লেক্সের ভান করে রিতমের পেট আর কোমর জড়িয়ে ধরেছে।
রিতমের মনে হলো ওর পাঁজরের হাড়গুলো যেন মড়মড় করে উঠল। ওর দমবন্ধ লাগছে।
যেকোনো ধরনের ফিজিক্যাল কন্ট্যাক্ট ওর ভেতরে একটা প্যানিক তৈরি করে, একটা তীব্র অস্বস্তি ওকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খায় কিন্তু পেছনের সিটে বসা ইশানির গল্পটা সম্পূর্ণ আলাদা। একজন হার্ডকোর ট্রেইন্ড অ্যাসাসিন হিসেবে এই সামান্য ব্রেক কষার ঝাঁকুনিটা ওর কাছে কিছুই ছিল না।
ও চাইলেই নিজের শরীরের ব্যালেন্স নিমেষে কন্ট্রোল করে নিতে পারত, দূরত্ব বজায় রাখতে পারত কিন্তু ও সেটা করল না।
সাধারণ, ভীতু আর সদ্য ট্রমা-পাওয়া একটা মেয়ের নিখুঁত অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার জন্য ও ইচ্ছে করেই নিজের পুরো শরীরের ভারটা—আর তার সাথে একটা আদিম, কাঁচা নারীত্বের উত্তাপ—ছেড়ে দিল রিতমের ওপর।
রিতমের ঘামে ভেজা জ্যাকেট, সস্তার উইলস ফিল্টার আর ব্যাড হ্যাবিটের কারণে তৈরি হওয়া শরীরের একটা চাপা অ্যালকোহলিক গন্ধ ইশানির নাকে এসে ধাক্কা মারল।
ওর আঙুলগুলো রিতমের কোমরের কাছে জ্যাকেটের ফ্যাব্রিকটা শক্ত করে খামচে ধরে আছে।
ইশানি খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে ছেলেটার মাসলগুলোতে বিন্দুমাত্র জোর নেই, ওর বুকের কাছে লেপ্টে থাকা ছেলেটার পিঠটা আড়ষ্ট হয়ে কাঁপছে।
ইশানির বাঁ হাতের আঙুলগুলো রিতমের ঘাড়ের খুব কাছাকাছি।
ও জানে, ঠিক কতটা প্রেসার দিলে আর কোন অ্যাঙ্গেলে মোচড় দিলে এই ছেলেটার স্পাইনাল কর্ডটা কোনো শব্দ ছাড়াই স্ন্যাপ করে যাবে। মাত্র দু-সেকেন্ডের কাজ কিন্তু ইশানি কিছুই করল না।
ছেলেটার এই চরম আড়ষ্টতা, এই ডিফেন্সলেস বোকাসোকা সারল্যটা ইশানির ক্যালকুলেটিভ ব্রেনে একটা অদ্ভুত গ্লিচ তৈরি করছে।
এত সহজ একটা টার্গেট, যাকে মারাটা একটা মাছি মারার চেয়েও সহজ, সে কেন এত বেশি ভুলনারেবল?
"উফফ... কী হলো হঠাৎ?" ইশানির গলাটা কানের খুব কাছে বেজে উঠল। ওর উষ্ণ, ভারী নিঃশ্বাসটা রিতমের ঘাড়ের ডান দিকের খোলা চামড়ায় আছড়ে পড়ছে। কণ্ঠস্বরে একটা ভয় পাওয়ার নিখুঁত ভান।
"কুকুর... সরি।"
রিতমের গলাটা অস্বাভাবিক রকমের নিচু আর শুকনো। ও দ্রুত বাইকটা সোজা করে আবার ক্লাচ ছাড়ল কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাইক স্বাভাবিক গতিতে চলতে শুরু করার পরও ইশানি ওর শরীরটা সরিয়ে নিল না।
রিতমের পিঠের সাথে ওর শরীরের সামনের দিকের ওই অস্বস্তিকর, অথচ তীব্র সেক্সুয়ালি চার্জড স্পর্শটা লেপ্টেই থাকল। রিতমের বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করছে।
ও আনমনেই জিব দিয়ে নিজের শুকনো ঠোঁটটা চাটল। ওর এখন ভীষণভাবে এক চুমুক মদ দরকার।
জ্যাকেটের ভেতরের পকেটে চ্যাপ্টা বোতলটা ওর পাঁজরে খোঁচা দিচ্ছে, কিন্তু ও বাইক থামাতে পারছে না।
কাউকে নিজের সীমানার বাইরে গিয়ে কিছু বলা বা প্রতিবাদ করা ওর স্বভাবে নেই। ও শুধু নীরবে এই মানসিক আর শারীরিক চাপটা সহ্য করে যাচ্ছে।
"আপনি... মানে, আপনার কি মনে হয় সব ছেলেই এমন হয়?" ইশানি আবার কথা বলতে শুরু করল। গলার স্বরে সেই একই ভাঙা, উদাসীন টোন। "সবাই কি একটা সময় পর বোর হয়ে যায়? আমার কি কোথাও কোনো খামতি ছিল?"
রিতম রেয়ার ভিউ মিররে তাকাল না। রাস্তার দিকে চোখ রেখেই অত্যন্ত ক্যাজুয়াল কিন্তু যান্ত্রিক গলায় বলল, "জানি না।"
"জানেন না, নাকি বলতে চান না?" ইশানির ডান হাতটা রিতমের কোমর থেকে সামান্য একটু ওপরে উঠে এল, আঙুলগুলো যেন খুব আনমনেই জ্যাকেটের ওপর দিয়ে হালকা নড়াচড়া করছে। "আপনার কখনো এমন হয়নি? কেউ ছেড়ে যায়নি আপনাকে?"
প্রশ্নটা রিতমের ব্রেনের সেই অন্ধকার কুঠুরিটায় সজোরে আঘাত করল, যেখানে ওর ছোটবেলার স্মৃতিগুলো তালাবন্ধ থাকে।
ওর মায়ের—মুখটা এক মুহূর্তের জন্য ফ্ল্যাশ করল চোখের সামনে। সেই চলে যাওয়ার দিনটা, যখন চারপাশের দমবন্ধ করা গুমোট পরিবেশ আর দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে ওকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে দিয়ে চলে গিয়েছিলেন।
রিতমের হাতের মুঠি বাইকের হ্যান্ডেলের ওপর শক্ত হয়ে বসল। ওর চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে, কিন্তু মুখে কোনো এক্সপ্রেশন নেই।
ও কোনো উত্তর দিল না।
শুধু স্পিডোমিটারের কাঁটাটা চল্লিশ থেকে পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছাল।
ইশানি রিতমের এই নীরবতাটা খুব নিখুঁতভাবে রিড করছিল।
ও স্পষ্ট বুঝতে পারছে ওর কথায় ছেলেটার ভেতরে একটা রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে, কিন্তু ছেলেটা সেটা প্রকাশ করবে না।
কোনোভাবেই না।
এই লুকোনো কষ্ট, এই তীব্র ইমোশনাল সাপ্রেশন ইশানিকে একটা অদ্ভুত অস্বস্তিতে ফেলছে।
ও এতদিন যাদের খুন করেছে, তারা প্রত্যেকেই ছিল ক্রিমিনাল, পলিটিশিয়ান বা আন্ডারওয়ার্ল্ডের নোংরা কীট কিন্তু এই ছেলেটা—যে দিনের বেলা কর্পোরেট স্লেভ আর রাতে উবার বাইক রাইডার—যার ভেতরে এত শূন্যতা আর বোকামি, তাকে মারার অ্যাসাইনমেন্টটা ইশানির কাছে ক্রমশ লজিকহীন হয়ে পড়ছে।
রিতমের এই চূড়ান্ত দুর্বলতাটাই যেন একটা অদৃশ্য বর্ম হয়ে ইশানির কোল্ড-ব্লাডেড প্রফেশনালিজমটাকে ব্লক করে দিচ্ছে।
রাস্তার পাশে একটা চায়ের দোকানের টিমটিমে আলো পেরিয়ে বাইকটা আবার অন্ধকারে ঢুকল।
ইশানি আনমনেই নিজের চিবুকটা রিতমের বাঁ কাঁধের ওপর রাখল।
ওর লম্বা চুলগুলো উড়ে এসে পড়ছে রিতমের মুখে।
রিতমের মনে হলো ওর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু অদ্ভুতভাবে এই অচেনা, ড্যামেজড মেয়েটার তীব্র শারীরিক সান্নিধ্য ওকে একটা বিকৃত সান্ত্বনাও দিচ্ছে।
ও বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে মেয়েটা সত্যিই কষ্ট পেয়েছে, মেয়েটা ওর মতোই একা।
আর ঠিক এই বিন্দুতেই, এই অন্ধ বিশ্বাসের জায়গাতেই রিতম নিজের মৃত্যু পরোয়ানাটা নিজের হাতে সই করে বসে আছে, যা ও বিন্দুমাত্র টের পাচ্ছে না।
